top of page

খুসকির নিরাময় আদৌ সম্ভব ?

  • সুস্বাস্থ্য প্রকাশনা
  • Mar 14, 2025
  • 3 min read

ডাঃ পার্থসারথি মল্লিক

গরম তেল মালিশ, অ্যান্টি ড্যানড্রফ শ্যাম্পু কিছুতেই নাছোড়বান্দা খুসকির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। খুসকির সমস্যায় নাকাল বয়ঃসন্ধির কিশোর-কিশোরী থেকে তাদের মা বাবারাও। বড় চুল বেঁধে রেখেও খুসকির হাত থেকে নিস্তার নেই। সুন্দর পোশাক সাদা খুসকির জ্বালায় অসুন্দর আর লজ্জাকর হয়ে ওঠে। তার এটি অনেক সময় ত্বকের ক্রনিক অসুখের উপসর্গ হতে পারে।

 প্রশ্ন : তেল গরম করে লাগালে নাকি খুসকি সেরে যায়?

  সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। রোজ গরম তেল লাগালে খুসকি কমার বদলে বেড়ে যাবে। আসলে খুসকি বা ড্যানড্রফ হল ত্বকের এক ক্রনিক সমস্যা। ডাক্তারি মতে এর নাম পিট্রিয়াসিস ক্যাপিটিস। অল্পবিস্তর খুসকি হলেও মাথা পরিষ্কার রাখলে তা আপনিই সেরে যায়। কিন্তু যখন খুসকির সমস্যা ক্রনিক হয়ে দাঁড়ায় আর ভয়ানক বেড়ে যায়, তখন তো ডাক্তার দেখাতেই হবে।

 প্রশ্ন : খুসকি কি সিরিয়াস অসুখ?

  সিরিয়াস অসুখ নয়। তবে অনেক সময় জটিল কোনো ত্বকের অসুখের উপসর্গ হিসাবে মাথা থেকে ত্বকের খোসা উঠে যায়। আমাদের স্কিনের নিচে সিবেসাস গ্ল্যান্ড নামে এক ধরনের গ্রন্থি থাকে। এর থেকে সেবাম নামে এক তৈলাক্ত পদার্থ বেরিয়ে আমাদের চুল ও ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। শীতের সময় শুষ্ক আবহাওয়ায় কারুর কারুর সিবাম নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে খুসকির সমস্যা আরো বেড়ে যায়। তার ওপর তেল মাখলে সমস্যা আরো বাড়ে।

 প্রশ্ন : সেলুনে চুল কাটলে অথবা অন্যের চিরুনি ব্যবহার করলে কি খুসকি ছড়িয়ে পড়ে?

  এই ধারণাটাও পুরোপুরি ভুল। খুসকি মোটেই উকুনের মতো ছোঁয়াছে নয়। অন্যের চিরুনি ব্যবহার করলে কখনওই খুসকি হয় না। যাদের মাথার ত্বকের নিচের সিবেসাস গ্রন্থি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অতিরিক্ত সিবাম নিঃসরণ করে, তখনই খুসকি হয়। খুসকি কিন্তু সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব নয়। চুল পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক বিশেষজ্ঞের নির্দেশে ওষুধ ব্যবহার করলে খুসকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। একমাস অমুক শ্যাম্পু ব্যবহার করলে খুসকি ভ্যানিস হবে। ব্যাপারটা ঠিক নয়।

 প্রশ্ন : বয়স্ক মানুষেরা তো নিয়মিত মাথায় তেল মাখেন, তাদের তো খুসকি হয় না অথচ অল্পবয়সিদের তেল লাগালেই সমস্যা বাড়ে। কেন?

  বয়ঃসন্ধিতে শরীরের নানান পরিবর্তনে হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর এই কারণেই খুসকি আর ব্রণ কমবয়সিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর ওপর মাথায় গরম বা ঠান্ডা তেল লাগালে সিবেসাস গ্রন্থি আরও নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুসকির সমস্যায় জেরবার হতে হয়। এছাড়া ত্বকের বেশ কিছু অসুখের উপসর্গ হিসাবেও মাথায় খুসকির মতো খোসা ওঠে।


 প্রশ্ন : কী কী অসুখ থেকে খুসকি হয়?

  সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, একজিমা বা কন্ট্যাক ডার্মাটাইটিস হলেও মাথায় খুসকির মতো শুকনো ছাল ওঠে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বুঝতে পারেন অসুখটা সত্যিই খুসকি না অন্য সমস্যা। তবে ভয় পাবেন না, সব সমস্যাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণত খুসকি হয়। পরিচ্ছন্ন থাকলে আর কিছু নিয়ম মেনে চললেই সমস্যা দূর হয়। তবে এটা ওটা লাগালে ও অপরিচ্ছন্ন থাকলে খুসকি বেড়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।

 প্রশ্ন : খুসকি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?

    কিটোকোনাজল নামে খুসকি নাশক শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সপ্তাহে একবার এই শ্যাম্পু করতে হবে। অন্যদিন সাধারণ শ্যাম্পু লাগাবে। সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন শ্যাম্পু করা দরকার। মাথা পরিষ্কার থাকলে খুসকির সমস্যা থাকবে না। প্রত্যেক একদিন অন্তর শ্যাম্পু করতে হবে। আর শ্যাম্পু করার আগে তেল মাখতে হবে। যদি স্ক্যাল্প খুব শুকিয়ে যায় অল্প নারকেল তেল লাগানো যেতে পারে। তবে বাড়াবাড়ি রকমের খুসকি হলে আইসো-ট্রেটিনয়েন গ্রুপের কিছু ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন।

 প্রশ্ন : তার মানে খুসকি হলে স্কিন স্পেশালিস্ট দেখানো মাস্ট?

সব সময় নয়। সপ্তাহে তিনদিন শ্যাম্পু (একদিন কিটোকোনাজল) করে মাথা পরিষ্কার করার পরেও যদি খুসকি না সারে, বার বার হয় এবং খুব বাড়াবাড়ি ধরনের খুসকি হয় এবং টানা দু-তিন মাস না সারে তাহলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। এছাড়া তাদের খুসকির প্রবণতা বেশি, তারা যদি চুল ছোট করে কেটে ফেলে তাহলে সমস্যা অনেকটাই কমবে।

হোমিওিপ্যাথি চিকিৎসা

কারণ, লক্ষণ, মায়াজম মিলিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করলে উপকার পাওয়া যাবে।

     

খুশকির নিরাময়: আদৌ সম্ভব কি?

 

খুশকি একটি সাধারণ মাথার ত্বকের সমস্যা যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এটি মাথার ত্বকে সাদা আঁশের মতো দেখা যায় এবং অনেক সময় চুলকানির কারণ হয়। অনেকেই খুশকির সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগে থাকেন এবং একে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দিহান।

 

       খুশকির কারণ

খুশকির উৎপত্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

ম্যালাসেজিয়া ফাঙ্গাস : এটি একধরনের ছত্রাক যা মানুষের মাথার ত্বকে বাস করে এবং অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে খুশকির সৃষ্টি হয়।

শুষ্ক ত্বক: শীতকালে বা পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে খুশকি দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত তেল উৎপাদন      : যদি মাথার ত্বক খুব বেশি তেল উৎপন্ন করে, তবে তা খুশকির কারণ হতে পারে।

ত্বকের সমস্যা: সোরিয়াসিস বা সেবোরিয়িক ডার্মাটাইটিসের মতো চর্মরোগ থেকেও খুশকি হতে পারে।

অপুষ্টি: খাদ্যতালিকায় জিঙ্ক, ভিটামিন বি এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির অভাব খুশকির কারণ হতে পারে।

চুলের যত্নের অভাব: নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করলে ত্বকের মৃত কোষ জমে খুশকি সৃষ্টি হতে পারে।

 

       খুশকি দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি

বাজারে অনেক ধরনের অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া গেলেও ঘরোয়া উপায়েও খুশকি দূর করা সম্ভব। কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি হলো--

 

নারকেল তেল ও লেবুর রস: নারকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগালে এটি ছত্রাক প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে খুশকি দূর করতে সহায়তা করে।

টী ট্রি অয়েল: এটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান সমৃদ্ধ, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে।

বেকিং সোডা: বেকিং সোডা মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং খুশকি কমাতে সাহায্য করে।

খুশকি কমায়।

 

       চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

খুশকি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

 

অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার: সালিসাইলিক অ্যাসিড, কেটোকোনাজল, জিঙ্ক পাইরিথিয়ন বা সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

       সঠিক খাদ্যাভ্যাস: প্রোটিন, ভিটামিন বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার খেলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে।

স্ট্রেস কমানো: অতিরিক্ত মানসিক চাপ খুশকির সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তাই মেডিটেশন বা ব্যায়াম করা উচিত।

চুল পরিষ্কার রাখা: নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা এবং অতিরিক্ত তেল না জমতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

চুলে রাসায়নিক ব্যবহার কমানো: অতিরিক্ত হেয়ার স্প্রে, জেল বা ডাই ব্যবহার খুশকির সমস্যা বাড়াতে পারে।

       স্থায়ীভাবে খুশকি দূর করা সম্ভব কি?

খুশকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও এটি স্থায়ীভাবে দূর করা কঠিন হতে পারে, বিশেষত যদি এটি চর্মরোগ বা হরমোনজনিত কারণে হয়ে থাকে। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে খুশকির মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে আনা যায় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

খুশকি একটি বিরক্তিকর সমস্যা হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের উপায় রয়েছে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও উপযুক্ত চুলের যত্নের মাধ্যমে এটি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 
 
 

Comments


Suswastha.png

Address: 2A Mandeville Gardens. Kolkata 700019

Email : suswastha9@gmail.com 

Follow us on

  • Facebook

© Copyright 2025, All rights reserved by Suswastha Publication. Developed by Simpact Digital (Unit of Debi Pranam)

bottom of page