top of page

দ্রুত বাড়ে প্রস্টেট টিউমার!

  • সুস্বাস্থ্য প্রকাশনা
  • Aug 1, 2025
  • 7 min read

ডাঃ এম. সি. শীল

(বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট, অ্যাপেলো গ্লেইনিগ্যালস হসপিটাল)

প্রস্টেট শব্দটির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও অধিকাংশ পুরুষ এই ব্যাপারে খুব সামান্যই জানেন। অনেকে একে টেস্টিসের সাথে গুলিয়ে ফেলেন।

সুপারির মতো দেখতে এই গ্রন্থি পুরুষদের শরীরে থাকে। যতটুকু জানা গেছে পুরুষদের সিমেন তৈরিতে এই গ্রন্থি সাহায্য করে।

প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ও উন্নতি টেস্টিস থেকে বেরোনো হরমোনের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। যৌনক্ষম বয়সে প্রস্টেটের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বেশি বয়সে এই গ্রন্থি প্রচুর সমস্যা বাধায়। প্রস্টেটটি থাকে প্রস্রাবের থলির নীচে। প্রস্রাবের নালী অর্থাৎ ইউরেথ্রার সংযোগস্থলে। প্রস্টেটের ভিতর কয়েক হাজার গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি আছে।

প্রস্টেট থেকে যে প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক হরমোন বের হয় তা পুরুষত্বের বিকাশে সাহায্য করে। প্রস্টেট বৃদ্ধি সারাজীবন ধরে চলে।

প্রস্টেটে টিউমার

প্রস্টেট বাড়তে থাকলে প্রস্টেটের ভিতর যে গ্রন্থি থাকে তার মধ্যে টিউমার তৈরি হয়। একটি হল বিনাইন যা ক্যানসার নয়, অন্যটি ক্যানসারাস।

এছাড়া প্রস্টেটের যে রোগটি খুবই পরিচিত সেটা হল সংক্রমণজনিত সমস্যা। প্রস্টেটের সংক্রমণ সাধারণত প্রস্রাব থেকেই আসে। কারণ প্রস্টেটের ভিতর ইউরেথ্রা দিয়েই প্রথম প্রস্রাবটা বের হয়। কোনো কারণে যদি প্রস্রাবে সংক্রমণ হয় তাহলে প্রস্টেট সংক্রমণ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। প্রস্টেট সংক্রমণজনিত সমস্যা শুধুমাত্র পঞ্চাশেই শুরু হবে তা নয়, কম বয়সেও হতে পারে।

সংক্রমণ থেকে হওয়া প্রস্টেটের সমস্যাকে বলে প্রস্টেটাইটিস। প্রস্টেটাইটিস হওয়া

পিছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। প্রস্রাবের ধারা ঠিক থাকলে সাধারণত প্রস্রাবে কোনো সংক্রমণ হয় না। কিডনিতে কোনো সংক্রমণ হলেও প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়ে থাকে। প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো বাধা থাকলেও প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়।

প্রস্টেট বাড়ার সাথে সাথে এপিথেলিয়াম ও স্ট্রোমাও বাড়তে শুরু করে। অনেক সময় প্রস্টেট তেমন বড় না হওয়া সত্ত্বেও স্ট্রোমার ভেতরকার পেশি সঙ্কোচনের ফলে উপসর্গ দেখা দেয়। আসলে এই ভিতরকার পেশি সঙ্কুচিত হলে মূত্রথলির মুখে এবং মূত্রনালীতে চাপ পড়ে। তাতে নালি বেরোবার রাস্তা সরু হয়ে যায়। এই প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রস্রাব বেরোবার পথে বাধার সৃষ্টি হয়। বাধাটি খুব বেশি মাত্রায় থাকায় প্রস্রাব করাটাই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকী অনেক সময় মূত্রনালিটির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

অনেক সময় ঠান্ডা বা উদ্বেগজনিত কারণে প্রস্টেট গ্রন্থির ভিতরের পেশিকলার সঙ্কোচন

হয় এবং সে ক্ষেত্রেও প্রস্রাব বের হতে সমস্যা হয়।

প্রাথমিকভাবে রোগীর উপসর্গ ও রোগের ইতিহাস জেনে ডিজিটাল রেক্টাল এগজামিনেশন সহ কিছু শারীরিক পরীক্ষা করেন চিকিৎসক।

সমস্ত রকম অনুসন্ধান করে যখন দেখা যায় যে প্রস্রাবে সমস্যার মূলে আছে প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীতি তখন তার চিকিৎসা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। এই চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হল মূত্রনালীর ওপর প্রস্টেট গ্রন্থির চাপ কমাবার ব্যবস্থা করা।

প্রস্টেট বৃদ্ধির চিকিৎসা ওষুধ প্রয়োগ কিংবা অপারেশনের সাহায্যে করা হয়। তবে উপসর্গ খুব সামান্য মাত্রার হলে চিকিৎসা না করে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। উপসর্গ মাঝারি পর্যায়ের হলে প্রথমে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া খুব কম এবং চিকিৎসা বন্ধ হলে পার্শপ্রতিক্রিয়া কমে যায়। যদি উপসর্গ খুব বিরক্তিকর ও তীব্র পর্যায়ের হয় তাহলে কিন্তু অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও কার্যকরী।

প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যে অস্ত্রোপচার করা হয় তার নাম প্রস্টেটের ট্রান্সইউরেথ্রাল রিসেকশন (টি.ইউ.আর.পি)। প্রস্টেট গ্রন্থির স্ফীত অংশ অপারেশনের মাধ্যমে সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া মূত্রনালীকে স্বাভাবিক করে তোলে। প্রস্রাব বেরোবার পথকে সুগম করে। এই অস্ত্রোপচার একেবারে আদর্শ।দ্রুত বাড়ে প্রস্টেট টিউমার

টিউমারজনিত সমস্যা

প্রস্টেটের টিউমার খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। এই টিউমারের বৃদ্ধি ত্রিশ থেকে আশি বছর বয়সের যে কারো হতে পারে। এমনিতে প্রকৃতির নিয়মে প্রস্টেট বড় হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রস্টেট বড় হলেও কোনো অসুবিধে হয় না। বা সারাজীবনে কোনো সমস্যাও হয় না।

প্রস্টেট গ্ল্যান্ডটা যেহেতু প্রস্রাবের থলির নীচে এবং ইউরেথ্রার একদম শুরুতে থাকে, তাই কোনো সমস্যা হলে প্রস্টেটে অবরোধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গ্ল্যান্ড যদি বাইরের দিকে বড় হয় সেটা প্রস্রাবের রাস্তাটাকে ব্লক করে না। যেখানে গ্ল্যান্ড প্রস্রাবের রাস্তার দিকে বড় হয় সে সব ক্ষেত্রে প্রস্রাবে বাধা আসে।

লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে প্রস্রাবের পথে বাধা হচ্ছে কি না। যেমন—

l বার বার প্রস্রাব হওয়া।

l প্রস্রাবের ধারা সরু হয়ে যাওয়া।

l প্রস্রাব করার সময় জ্বালা।

l সংক্রমণ ।

l ব্লিডিং।

ব্লিডিং হওয়া মানেই যে প্রস্টেট ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। অনেক সময় প্রস্রাবের থলির মধ্যে গ্ল্যান্ডটা বড় হয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায় আর রক্তনালীগুলো বড় হয়ে যায়। সেই কারণেও রক্ত বের হতে পারে।

প্রস্টেট ক্যানসার

প্রস্টেট ক্যানসার এমন একটি ক্যানসার যার সার্জারি ছাড়াও অন্যরকম চিকিৎসা আছে। সাধারণত সব ধরনের প্রস্টেট ক্যানসারে হরমোন ডিপেন্ডেন্ট চিকিৎসা করা হয়। প্রস্টেট ক্যানসার চিকিৎসা করিয়ে অনেকদিন ভালো থাকা

সম্ভব। বিনাইন টিউমার ক্যানসার না হলেও এগুলো প্রস্রাবের রাস্তাকে ব্লক করে ছোট করে দেয়।

বর্তমানে অনেক আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ প্রস্টেটের জন্য এসেছে। প্রস্রাব বন্ধ হওয়া, রক্তপাত হওয়া, বারবার প্রস্রাব হওয়া, সাধারণ কাজকর্ম করতে না পারা কিংবা সম্পূর্ণভাবে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা যদি না হয় তাহলে অপারেশন লাগবে না। এছাড়া বিভিন্ন রকম ওষুধ দিয়ে অপারেশনকে পিছিয়ে রাখা সম্ভব।

প্রস্টেট গ্রন্থি খুব বড় না হলেও ক্যানসার হতে পারে। প্রথমত প্রস্টেট ক্যানসারের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে রোগ ধরতে পি.এস.এ বা প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন ব্লাড টেস্ট করা হয়।


পি.এস.এ পরীক্ষাকে একটা মার্কার বলা হয়। পি.এস.এ এমন একটি প্রোটিন জাতীয় উপাদান, যা শুধুমাত্র প্রস্টেটগ্রন্থি থেকে তৈরি হয়। প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে তরল বীর্যে এসে মেশে, তার অন্যতম উপাদান হল পি.এস.এ। বীর্যে মেশার পাশাপাশি কিছুটা পরিমাণ পি.এস.এ রক্তে এসে মেশে। সেটাই রক্তে পরীক্ষা করা হয়। বিনাইন প্রস্টেটেও পি.এস.এ বাড়ে। ক্যানসার হলেও বাড়ে। তাই পি.এস.এ বেড়েছে বলেই যে ক্যানসার হয়েছে এমন ভাবার কোনো যুক্তি নেই।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায় প্রস্টেটের নরম অংশটা শক্ত হয়ে যায়। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় জেনে নেওয়া দরকার রোগটি বিনাইন নাকি ক্যানসারাস।

লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করে পায়খানার রাস্তার ওপর দিয়ে বায়োপসি করা হয় এবং আট থেকে দশটি জায়গায় মার্ক করে বায়োপসি করা হয়।

অনেক সময় প্রস্টেট ক্যানসার এক জায়গায় না হয়ে প্রস্টেটের বিভিন্ন গ্রন্থিতে হতে পারে। সেই কারণে মাল্টিপল বায়োপসি করা দরকার। এই বায়োপসিতে যদি পজেটিভ কিছু ফলাফল আসে তখন দেখতে হয় অন্য কোনো জায়গায় ছড়িয়েছে কি না।

প্রস্টেট ক্যানসার লক্ষণ কিছু প্রকাশ না করলেও শরীরের অনেক জায়গায় ছড়াতে পারে। বিশেষ করে হাড়ে। সাধারণত স্পাইন বা শরীরের যে কোনো জায়গায় ক্যানসার ছড়িয়ে যায় রক্তের মাধ্যমে। এমনও দেখা গেছে হাড়ের ব্যথা নিয়ে রোগী এসেছে, প্রস্রাবের কোনো কষ্ট নেই। হাড়ের ব্যথার ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে ধরা পড়ে হাড়ের ভিতর মেটাস্টেটিস।

প্রস্রাবে অসুবিধে, তার সাথে কোমর ব্যথা থাকলে অ্যাডভান্সড ক্যানসারের কথা ভাবতে হবে।

চিকিৎসা

বায়োপসি করে নিঃসন্দেহ হতে হবে ক্যানসার সম্বন্ধে। তারপরে স্থির করতে হবে হরমোনাল চিকিৎসা হবে নাকি অপারেশন।

যদি প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো বাধা থাকে তাহলে সেই রাস্তাটাকে পরিষ্কার করতে হবে। বায়োপসি করে দেখতে হবে। যদি হরমোন চিকিৎসা না চলে তাহলে অপারেশনে চলে যেতে হবে। আজকাল দু’রকম চিকিৎসাই হয়। হরমোন ম্যানিপুলেশনের জন্য ট্যাবলেটও আছে এবং ইঞ্জেকশনও আছে।

আজকাল চল হয়েছে টোটাল র্যাডিক্যাল প্রস্টেটেক্টমি অপারেশনের। এর ভালোমন্দ দুটো দিকই আছে। রোগীর যদি অন্য কোনো জায়গায় ক্যানসার ছড়িয়ে না পড়ে একই জায়গায় থাকে তাহলে এই পদ্ধতিতে টিউমারটিকে নষ্ট করে রোগ নিরাময় করা হয়।

ঠিকমতো অপারেশন না হলে প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে। দেখা গেছে লং টার্ম রেজাল্টে দুটোই সমান। হাড়ে মেটাস্টেটিস হয়ে যাবার পরেও অনেক রোগী শুধুমাত্র হরমোন চিকিৎসায় বেঁচে আছে দীর্ঘদিন। ক্যানসারে আক্রান্ত পুরুষদের মৃত্যুর হার তুলনায় বেশি হলেও প্রস্টেট ক্যানসারে মৃত্যুর হার অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় অনেক কম। প্রাথমিক অবস্থা তো বটেই কিছুটা দেরিতে ধরা পড়লেও চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা সম্ভব।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা


হোমিওপ্যাথি একটি সামগ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগীর শারীরিক, মানসিক ও জীবনযাপনগত অবস্থার উপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করে। হোমিও চিকিৎসায় লক্ষণ-ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তুলে কার্যকরভাবে রোগ নিরাময় করা হয়।


BPH-র জন্য কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ


Sabal Serrulata


লক্ষণ: প্রোস্টেটের বর্ধিত আকার, প্রস্রাবের প্রবাহ কমে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, সেক্সুয়াল দুর্বলতা, প্রস্রাবের পরেও মূত্রথলি পূর্ণ মনে হওয়া।


মাত্রা: Mother tincture (Q) — দিনে ২-৩ বার ১০-১৫ ফোঁটা করে।



Conium Maculatum


লক্ষণ: বৃদ্ধ বয়সে প্রোস্টেটের বৃদ্ধি, প্রস্রাব করতে সময় লাগা, প্রস্রাব ধীরগতিতে আসা, যৌন ইচ্ছা হ্রাস।


ব্যবহার: উপসর্গ অনুযায়ী ৬C বা ৩০C দিনে ২ বার।



Baryta Carb


লক্ষণ: বৃদ্ধ পুরুষদের জন্য উপযুক্ত, মূত্র ধারা ক্ষীণ, পুরনো মূত্র রয়ে যাওয়া, শীতল প্রকৃতির, মানসিক দুর্বলতা।


ব্যবহার: ৩০C বা ২০০C – সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার।



Chimaphila Umbellata


লক্ষণ: প্রস্রাব করার সময় ঝুঁকে থাকতে হয়, প্রস্রাবের পরও আরাম না হওয়া, পেছনে ব্যথা।


ব্যবহার: Q (মাদার টিংচার) — দিনে ২ বার ১০-১৫ ফোঁটা করে।



Thuja Occidentalis


লক্ষণ: প্রস্রাবে কষ্ট, বারবার মূত্রত্যাগের বেগ, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, প্রোস্টেট গ্রন্থির গঠনগত অসংগতি।


ব্যবহার: ৩০C বা ২০০C — সাপ্তাহিক মাত্রায় ব্যবহৃত হতে পারে।


Lycopodium


লক্ষণ: বয়স্কদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে প্রোস্টেট সমস্যা, প্রস্রাবের ধারা খণ্ড খণ্ড, বিকালের পর উপসর্গ বেড়ে যায়।


ব্যবহার: ২০০C বা ১M — সপ্তাহে ১ বার।


Ferrum Picricum


লক্ষণ: প্রোস্টেট বৃদ্ধি ও অল্প চাপেই প্রস্রাব হয়ে যাওয়া, নিচের পেটে ভারী ভাব।


ব্যবহার: ৬X — দিনে ২-৩ বার।


Staphysagria


লক্ষণ: যৌন সংযম বা অতিরিক্ত যৌন অভ্যাসের পরে প্রোস্টেট সমস্যা, মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তি।

ব্যবহার: ৩০C — দিনে ১-২ বার।



ব্যক্তি অনুযায়ী চিকিৎসা নির্বাচন


হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্য একাধিক ঔষধ ব্যবহৃত হতে পারে, তবে রোগীর শরীরিক কাঠামো, মনের অবস্থা, জীবনযাত্রা এবং নির্দিষ্ট লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সঠিক ঔষধ নির্ধারণ করেন। যেমন:

যদি রোগী লাজুক প্রকৃতির, রাতে উপসর্গ বেড়ে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তবে Lycopodium উপযুক্ত।

যদি রোগী উত্তেজনাপূর্ণ প্রকৃতির, সেক্সুয়াল অতিরিক্ততায় ভোগেন, তবে Staphysagria কার্যকর।

যদি রোগী শীতল প্রকৃতির, মানসিকভাবে দুর্বল হন, তবে Baryta Carb ভালো কাজ করে।


হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি:


জল বেশি পান করুন – দিনে অন্তত ২-৩ লিটার।

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলুন – আঁশযুক্ত খাবার খান।

চা-কফি ও অ্যালকোহল কমান – ক্যাফেইন মূত্রাশয় উত্তেজিত করে।

রাতে বেশি পানি পান এড়িয়ে চলুন – রাতের প্রস্রাব কমাতে সহায়তা করে।

শারীরিক ব্যায়াম করুন – পায়ে হাঁটা, যোগব্যায়াম সহায়ক।


হোমিও চিকিৎসার সুবিধাসমূহ


পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই (যথাযথ ব্যবহারে)

ধীরে ধীরে মূল কারণের প্রতিকার করে

দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধান

দেহের স্বাভাবিক প্রতিরোধ শক্তিকে সক্রিয় করে


প্রোস্টেট হাইপারপ্লাসিয়া একটি সাধারণ বার্ধক্যজনিত সমস্যা, যা অনেকের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিরাপদ, স্বল্প ব্যয়বহুল ও কার্যকরী সমাধান দিতে পারে, যদি তা একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা হয়।

সতর্কতা: এই লেখাটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। সুনির্দিষ্ট রোগ উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ভেষজ চিকিৎসা


অনেক রোগী প্রচলিত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমনঃ যৌন দুর্বলতা, রক্তচাপ হ্রাস, মাথা ঘোরা ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি খোঁজেন। আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও লোকচিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্টেটের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।



গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উপাদানসমূহ ও তাদের ব্যবহার


সো প্যালমেটো (Saw Palmetto) 


এটি একটি প্রাকৃতিক ফল যা আমেরিকার স্থানীয় উদ্ভিদ।


DHT হরমোন রোধ করে প্রস্টেট গ্রন্থির আকার কমায়।

 ব্যবহার:

সো প্যালমেটোর এক্সট্র্যাক্ট ক্যাপসুল বা চা হিসেবে খাওয়া যায়। দিনে ১–২ বার ৩০০-৩২০ মিগ্রা।


পাম্পকিন সিড (Pumpkin Seed) 


দস্তা (Zinc) ও ফাইটোস্টেরল সমৃদ্ধ।


মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।

 ব্যবহার:

প্রতিদিন ২-৩ চামচ কাঁচা বা হালকা ভাজা কুমড়োর বিচি খেতে পারেন।


নেটল রুট (Stinging Nettle Root)


হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে

মূত্রের গতি স্বাভাবিক করে


 ব্যবহার:

নেটল চা বা এক্সট্র্যাক্ট সাপ্লিমেন্ট হিসাবে দিনে ১-২ বার।

টমেটো ও লাইকোপিন 


লাইকোপিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

প্রস্টেট গ্রন্থির কোষকে সুরক্ষা দেয়

 ব্যবহার:

প্রতিদিন রান্না করা টমেটো খাওয়া, বিশেষ করে টমেটো স্যুপ বা পিউরি।

তুলসী পাতা (Basil Leaves) 


প্রদাহ রোধে কার্যকর

হরমোন ব্যালান্স করে

 ব্যবহার:

তাজা তুলসীপাতার রস ১ চা চামচ সকালে খালি পেটে।


গোক্ষুর (GokshuraTribulus Terrestris)

প্রস্রাব পরিষ্কার করে

যৌনস্বাস্থ্য উন্নত করে এবং প্রস্রাবের সমস্যা কমায়


 ব্যবহার:

আয়ুর্বেদিক গুঁড়ো বা ক্যাপসুল আকারে দিনে ২ বার


হলুদ ও কুরকুমিন (Turmeric & Curcumin)


শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি

কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে


 ব্যবহার:

গোল্ডেন মিল্ক (দুধে হলুদ মিশিয়ে) রাতে পান করুন।



ঘরোয়া নিয়ম ও খাদ্যাভ্যাস


করণীয়:


বেশি করে জল পান করুন (তবে রাতে কম)

আঁশযুক্ত খাদ্য খান (সবজি, ফল, ওটস, চিয়া সিড)

দুধ-দইয়ের বদলে বাদামি দুধ (আলমন্ড সয়াবিন)

নিয়মিত ব্যায়াম করুন (হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম)

মানসিক চাপ কমান


বর্জনীয়


অতিরিক্ত লবণ ও মসলাযুক্ত খাবার

চা-কফি ও অ্যালকোহল

রেড মিট ও ফাস্ট ফুড

ধূমপান


উপকারী আয়ুর্বেদিক উপাদান


ত্রিফলা চূর্ণ


প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে ১ চা চামচ গরম জলে মিশিয়ে খান।

হজম ভালো হয় ও টক্সিন দূর হয়।


শতাবারি ও অশ্বগন্ধা চূর্ণ


নার্ভ ও প্রস্টেট টিস্যু মজবুত করে

দিনে দুই বার ১ চা চামচ করে খেতে পারেন।


যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম


গুরুত্বপূর্ণ যোগাসন


বজ্রাসন

মলাসন

ভদ্রাসন

শবাসন


প্রাণায়াম


অনুলোমবিলম-

ভ্রামরী

কপালভাতি (সতর্কতার সাথে)

সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ


যদিও ভেষজ চিকিৎসা নিরাপদ, তবুও সব উপাদান সকলের শরীরের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। নিচের অবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ আবশ্যক:


প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া

জ্বর, পেছনের অংশে ব্যথা

প্রস্রাবে রক্ত

প্রচণ্ড দুর্বলতা বা ওজন হ্রাস


প্রস্টেট এনলাজমেন্ট একটি বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা হলেও সঠিক পরিচর্যা ও ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, প্রকৃতি-নির্ভর চিকিৎসা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ—এই তিনের সম্মিলনে আপনি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারেন।


 
 
 

Comments


Suswastha.png

Address: 2A Mandeville Gardens. Kolkata 700019

Email : suswastha9@gmail.com 

Follow us on

  • Facebook

© Copyright 2025, All rights reserved by Suswastha Publication. Developed by Simpact Digital (Unit of Debi Pranam)

bottom of page